About Us

অধুনা কথা

গ্রামই আমাদের গর্বিত ঐতিয্য

বর্তমান বর্ণাঢ্য আধুনিক ও দ্রুত অগ্রসরমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আমরা "অধুনা থিয়েটার" এক অতি সুপরিচিত বাঙালি সাংস্কৃতিক বংশ৷ যার প্রতিটি সন্তান বহুমাত্রিকতায় সৃজনশীল এবং আত্মিকভাবে শিল্পবন্ধু৷


একটি মফশ্বল উপশহরের গ্রাম্য উঠোনে কিছু ভাবুক সংস্কৃতিমনা উদার ব্যক্তিদের কোলে প্রথম শ্বাস ফেলে অধুনা থিয়েটার৷আদর্শিক অবস্থানে অটল এই বাঙাল সংগঠনটি জন্ম দিয়েছে অসংখ্য শিল্পিকে৷ সৃষ্টি করেছে প্রণখুলে উপভোগ করার মত কিছু মঞ্চশিল্প৷ সুযোগ করেছে সামাজিকতার অতি আন্তরিক ভাবসম্প্রসাণে৷শুধুমাত্র নাটকেই সীমিত থাকেনি অধুনা থিয়েটারের কার্যক্রম বরং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের বিচিত্রতায়, সামাজিক গঠনমূলক ও সেচ্ছাসেবীতায় রয়েছে অগ্রগামী ভূমিকা।


সুদীর্ঘ পথচলায় সময়ের প্রয়োজনে আধুনিকতার ছোঁয়াও লেগেছে আমাদের আচরণে-কর্মে, তবে মর্মে শুধুই নিগুঢ় বাঙালি সত্তা৷ এবার আমরা শুরু করেছি নিজেদেরকে প্রযুক্তিগতভাবে শাণিত করার৷ আমরা দেখব শুনব বুঝব বিশ্ব সভ্যতাকে সংস্কৃতিকে৷ আবার দেখাব শোনাব বোঝাব আমাদের সত্তাকে সংস্কৃতিকে৷


আমরা প্রত্যয়ী, সুখী এবং ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ কিছু মানুষের এক বিশাল পরিবার৷ আমাদের মেলে আপনার আমত্রণ৷

প্রতিষ্ঠাতার অভিব্যাক্তি

বানী নয়, শুভেচ্ছা নয়, সহযাত্রা

Image

অধুনা থিয়েটার এর গৌরবময় পথ চলার আরেকটি মাইলফলক আমরা স্পর্শ করতে যাচ্ছি। অত্যন্ত গর্ববোধ করছি যে আমরা অধুনা থিয়েটার প্রথম বাংলাদেশী নাট্য সংগঠন হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ওয়েবসাইট জনসম্মূখে উদ্ধোধন করব। এই স্মরণীয় সময়ে অধুনার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যাদের শ্রমে-শক্তিতে সংগঠনটি পথ চলেছে  সবাইকে জানাই কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। ধন্যবাদ জানাই- এডভোকেট নাজনীন কাজল ও এডভোকেট ফারহানা ফেরদৌসীর নেতৃত্বাধীন কার্যকরী পরিষদের সকল দায়িত্বশীলদের- যাদের দায়িত্বকালীন সময়ে অধুনা থিয়েটার তার সকল অতীত ঐতিহ্যকে ধারণ করে তথা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে নিজস্ব ওয়েব সাইট উদ্ধোধন করতে যাচ্ছে। সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সঞ্জীব কুমার তলাপাত্র কে যার সৃজনশীল চিন্তাধারা, একনিষ্ঠ উদ্যোগ ও নিরলস পরিশ্রমে অধুনা থিয়েটার পেয়েছে তার নিজস্ব ওয়েব সাইট এবং ওয়েব আর্কাইভ। অধুনা অন্ত:প্রাণ এই শিল্পমনা বন্ধুটির সৃষ্টিশীতার এক অনন্য নিদর্শন এই ওয়েবসাইট যার প্রতিটি পরতে জরিয়ে আছে অধুনা থিয়েটারের বিগত ২৮ বছরের পথচলার সব স্মৃতি, আবেগ, ভালবাসা।

ভাবতেই অবাক লাগে ১৯৯১ সালে কুমিল্লা শহরতলীর রাজাপাড়া গ্রাম থেকে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে কিছু স্বপ্নবাজ সাংস্কৃতিক সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে যে সংগঠনটির যাত্রা শুরু করেছিলাম আজ তার ২৮ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আমাদের সংগঠনের অর্জন অনেক হলেও এখনও স্পর্শ করতে হবে আরো কিছু স্বপ্ন। তবে গর্বের সাথে উচ্চারন করা যায়- আমরা কখনো থেমে থাকিনি। জেলা শহরের হাজারো সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে অধুনার নাট্যকর্মীরা- প্রজ্ঞা-সাহস-মেধা ও দৃঢ়তার সাথে। সুদৃর ২৭ বছর পেরিয়ে অভিজ্ঞতায়, উৎসব আয়োজনে, বৈচিত্র আর বর্ণাঢ্যতায় আজ এক অনন্য স্থানে অধুনা প্রতিষ্ঠিত নাগরিক আলোচনায়। সাংস্কৃতিক পদযাত্রায়- আলোকোজ্জ্বল নেতৃত্ব দিয়েছে অধুনা সময়ের প্রয়োজনে দৃপ্ত প্রতিজ্ঞায়।প্রতিনিয়তই আমরা সমৃদ্ধ হচ্ছি আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চায়, কর্মকান্ডে এবং এ দীর্ঘ সময় অধুনা পরিবারে যুক্ত হয়েছে অনেক সম্ভাবনাময়ী তারুন্য যাদের সক্রিয় উপস্থিতি ও সৃজনশীল কর্মতৎপরতায় অধুনা থিয়েটারের আজকের এ বিশেষ অবস্থান। শুধুমাত্র মঞ্চ নাটক ই নয়- অধুনা থিয়েটার কুমিল্লার মূল ধারার সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগঠিত ও পরিচালনা করবার ক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে- সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভালো লাগার অনুভূতি হলো- অধুনা আজ নিজ জেলার গন্ডিকে পেরিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে; ডানা মেলেছে বিশ্ব সংস্কৃতির আকাশে। তাই যখনি যাদের উপর অধুনা থিয়েটারের পরিচালনার ভার অর্পিত হবে- তারা যেন সংগঠনের গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করে সামনের দিকে অগ্রসর হয় সে প্রত্যাশা রইলো।

দীর্ঘ পথ চলার সকল সাথীদের স্মরণ করছি- যাদের অনবদ্য অবদান কখনো ভূলবার নয়। নিষ্ক্রিয়তা ভেঙ্গে, মান অভিমান ভূলে আবারো এক সাথে পথ চলার আহবান জানাই। বুকে ইস্পাত কঠিন প্রত্যয় লালন করে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ধারাতে আমরা অবিচল থাকবো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বপ্নের দেশ তৈরীতে অধুনার সাথীরা সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় সক্রীয় থাকবে গভীর মমতায়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় অধুনা থিয়েটার এগিয়ে যাবে সুন্দর আগামী বিনির্মানের লক্ষ্যে। আশাপ্রকাশ করছি আপনাদের সাথে নিয়েই আমরা সর্বময় বিকশিত হব এবং প্রকাশিত থাকব এই স্মৃতির পোর্টালে। জয়তু অধুনা থিয়েটার 

এড. শহীদুল হক স্বপন
(২৪/০৬/২০১৮)

সম্পাদকীয় কথা

অধুনা ওয়েব পোর্টাল

Image

আমার শৈশবে আশির দশকে আমার বাবা আমাকে নিয়ে মাঝে মধ্যে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে যেতেন যখন আমি প্রাথমিকে পড়ি। আমি বাবার আঙুল ধরে চুপচাপ সঙ্গে সঙ্গে যেতাম, পথে রিকসায় বা হাঁটতে হাঁটতে বাবা কি জেন বিড়বিড় করে বলতেন যা কানে শব্দ যোগালেও দূর্বোধ্য ছিল। আপনাদের বুঝতে বোধ করি আর বাকি নেই যে তিনি নাট্যচর্চ্চা করতেন আর ডায়লগ গুলি মনের মধ্যে আওড়াতেন যা আমার কাছে ঘুঘুর ডাক মনে হলেও বাবার কাছে ছিল সাধনা। ছোটবেলায় দিদিকে দেখেছি সন্ধ্যা হলেই হারমনিয়াম নিয়ে রেওয়াজ করেতে বসে যেতে। আর আমি তখন রাজনৈতিক দলের মিছিলের ডায়লগ আর নেতামি কপি করে বাসার বিছানায় আর পাড়ার উঠানের মাঠির ঢিবির উপর দাঁড়িয়ে বলতাম আর দেখাতাম যার প্রশংসায় ২৫ পয়সার লজেন্স অনেক খেয়েছি। আমার সাংস্কৃতিক চর্চ্চার সুত্রপাত বোধকরি সেখান থেকেই আর তা অবশ্যই বংশগত বলে আমি বিবেচনা করি। 


খুব ছোটবেলা থেকেই আমি বহু মানুষের সংস্পর্শ খুব উপভোগ করি আর তাই বন্ধুরা বিকালে যখন খেলায় ব্যাস্ত থাকত তখন আমি পাড়াত একটু বড় ভাইদের সাথে হেঁটে হেঁটে শহর দেখতে বের হতাম, বহু মার খেয়েছি দুএক বেলা লাপাত্তা হওয়ার জন্য। বয়সে বড় হয়েছি কিন্তু অভ্যাস তো যায়নি তেমনি এক একাকি বৈকালিক ভ্রমণে কুমিল্লার কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আবিষ্কার করলাম অধুনা থিয়েটার এর অনুশীলনরত কিছু ভাই বোনদের। দরজার সামনে দিয়ে পায়চারি, বারংবার দেখার বোঝার চেষ্টাটাই অধুনাকে আমার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষিত করেছিল আর সে থেকেই সদস্য অন্তর্ভূক্তি সহচার্যে পথচলা। 


চলতে চলতে প্রায় দেড় যুগের মত সময় চলে গিয়েছে কিন্তু যা দিয়ে গিয়েছে সেটা খুবই মূল্যবান, আমার কৈশরের ব্যাক্তিগত স্মৃতি আর একটি হাস্যোজ্জল সুখি সাংস্কৃতিক পরিবার নামঅধুনা থিয়েটার এই দীর্ঘ সময় ধরে দলের বর্ণিল কার্যক্রম আর সাংগঠনিক উদ্যমই আমাকে একটি দলীয় আর্কাইভ করার দিকে মনোনিবেশ করায়। ২০১০ সালে সর্বপ্রথম এই ধরণা কিছু সহ নাট্যকর্মীর কাছে প্রকাশ করি যা আমলে আসেনি কারণ মফস্বলের থিয়েটার যা আবার সেচ্ছাসেবী-সমাজসেবী-অলাভজনক নাটকের দল। কিন্তুু আমি ছিলাম একাগ্রচিত্ত আর একজন ছিলেন যিনি শহীদুল হক স্বপন, অধুনা থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা যার একছত্র ভালবাসা আর অনুপ্রেরণা আমাকে এই আর্কাইভ নির্মানের পথচলায় নির্ঘুম রেখেছে। ২০১২ সালে এই সপ্নের নৌকার পালে প্রথম হাওয়া লাগে, তৎকালীন সভাপতি সহ কিছু বয়জেষ্ঠ সদস্যের প্রাথমিক অনুদানে কাজ শুরু করি কিন্তুু বছর না ঘুরতেই নৌকডুবি, আবার একই কারন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নিজেদের আর্থিক অবস্থানই যখন সুদৃঢ় নয় তখন এই যাত্রা অপচয় বা উচ্চাভিলাসই বটে। তবে হাল ছাড়িনি কারণ এই ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সপ্নবাজ দলের অগ্রযাত্রার কাহিনি যদি এই বাংলাদেশের মানুষ তথা বাঙালি সমাজ না জানে তবে এই যাত্রা মহিমান্বিত হবে বলে আমি মনে করি না। সময় খুব দ্রত বদলেছে আজ আধুনিকায়নের যুগে এসে অধুনা পরিবারের সবাই এই ওয়েব পোর্টার কাজে সর্বোচ্চ সম্ভব আত্মনিয়োগ করেছে; একটি সদস্যের অংশগ্রহণ ব্যাতিরেখেও এর কাজ পরিপূর্ণ করা সম্ভব ছিল না। আমার মত হজার তরুণ তরুণীর সাংস্কৃতিক পথ চলার স্মৃতি বিজড়িত এই দল যার বাংলা লোকজ সংস্কৃতি চর্চ্চায় স্থানীয় জাতীয় পর্যায়ে অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। শুনতে আশ্চর্য হলেও বাংলার মফস্বলের এই দলটি বিগত বছরে বারের মত ১০ দিন ব্যাপি নাট্যোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যেখানে আমন্ত্রিত থেকে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রসিদ্ধ সব নাটকের দল তাদের নাটক। 


আজ বিশ^দরবারে অধুনার কার্যক্রম অবমুক্ত হচ্ছে আনন্দ অপরিসীম; তবে এই অভিব্যাক্তি আমি অব্যক্তই রাখতে চাই কারণ আরও অনেক পথ চলতে হবে, বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চ্চাকে বেগবান করতে আমাদের মত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংগঠনগুলির মধ্যে সেতুবন্ধন করতে হবে। এই ওয়েব পোর্টাল শুধু দলীয় আর্কাইভই নয় এর লক্ষ্য আরও বড়। আমরা অধুনা থিয়েটার এই পোর্টালকে বাঙালির সাহিত্য চর্চ্চার বিকাশের এক অনবদ্য মাধ্যম রুপে গড়ে তুলতে প্রত্যয়ী। বিশ^ময় বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিয্যের যাত্রায় আমরা হব ভোরের পাখি এই আশাটুকুই আমাদের অনুপ্রেরণা।


জয় হোক বাংলা সংস্কৃতির, জয় হোক বাংলা মাতার, জয় হোক বিশ^ মানব সভ্যতার, গড়ে উঠুক অহিংস সুখি বিশ^পরিবার।


সঞ্জীব কুমার তলাপাত্র 

০৫-০৭-২০১৯

বাণী ও সুহৃদ শুভেচ্ছা স্মারক

তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন সেই জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন...

Image

স্মৃতি আজাদ

যুক্তরাজ্যের ডকল্যান্ড থিয়েটার এর চ্যায়ারপার্সন

ধন্যবাদ অধুনা থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট শহিদুল হক স্বপন, সভাপতি এডভোকেট নাজনীন কাজল , সাধারণ সম্পাদক ফারহানা ফেরদৌসী , বিশিষ্ট ছড়াকার জহিরুল হক দুলাল , নাট্যব্যাক্তিত্ব হাশিম আপ্পু , তপন সেন গুপ্ত,। কুমিল্লার জনপ্রিয় জাড়ি দল এর সদস্য এবং বিভিন্ন নাট্যকর্মীদের প্রতি আমার অভিনন্দন ! আমাকে সম্মানিত করার জন্য আমি আনন্দচিত্তে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করি সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে অধুনা সহ কুমিল্লা তথা বাংলার সকল থিয়েটার। কুমিল্লার এক সময়কার খুবই জনপ্রিয় জাড়ি গানের শিল্পী বৃন্দের গান শুনে আমি মুগ্ধ। তারা অনেকে বার্ধক্যকের কারণে হাটাচলা করতে পারেন না। দলের দলনেতা শুধু আমার জন্য অনুষ্ঠানে এসে হুইল চেয়ারে বসে গানের মাধ্যমে আমাকে যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন, আমি কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো আমার সেই ভাষা নেই,,আমি সবার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমার যে কি ভালো লেগেছিল আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না, যে সব নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আমাকে এবং আমার পরিবারকে সম্মাননা জানিয়েছেন তাদের প্রতি রইলো আমার শুভকামনা । আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আমার ছোট বোন বর্ণালী চক্রবর্তী কে ( ডকল্যান্ডস থিয়েটারের কালচারাল সেক্রেটারি ) আমি বর্ণালী কে নিয়ে গর্ববোধ করি সে কুমিল্লার অধুনা থিয়েটারের একজন একনিষ্ঠ কর্মী. বর্নালী তোকে আমি ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবোনা বোন, তোর এমন আয়োজনের জন্য আমি সত্যিই অভিভূত। (২৬ /১২/২০১৭)

Image

জহিরুল হক দুলাল

কবি ও প্রাবন্ধিক

মূলত নটককে উপজীব্য করে যে সংগঠনটি দীর্ঘদিন যাবৎ ধারাবাহিকভাবে কুমিল্লার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে আসছে- তার নাম অধুনা থিয়েটার। নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন, নাট্য বিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার, নাট্য উৎসব ও বিবিধ প্রকাশনার মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নাটকের ক্রমন্নতির লক্ষ্যে প্রযোজনায় দেশের খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্বদেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং তাদের অর্জিত জ্ঞান ও লব্ধ অভিজ্ঞতাকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছে। এভাবেই দলটি ক্রমাগত পরিণত হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্যারিসে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদারকে কুমিল্লায় এনে সংবর্ধনা দিয়েছে এবং মূকাভিনয় বিষয়ক একাধিক ব্যাতিক্রমধর্মী কর্মশালার আয়োজন করেছে যা জেলার নট্যচর্চায় নুতন মাত্রা যুক্ত করেছে। কুমিল্লার প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অভিন্ন প্লাটফরম “কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোট” এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সংগঠন অধুনা থিয়েটার। জোটের কর্মপরিকল্পনা নির্মাণ ও বাস্তবায়নে সংগঠনটির অবদান তাৎপর্যপূর্ন। প্রতিষ্ঠানটিতে যিনি প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন - দিয়েছেন গতি, অগ্রযাত্রাকে করেছেন ধারাবাহিক তিনি শহীদুল হক স্বপন। তার স্ত্রী সংগীত শিল্পী নাজনীন কাজল ও এর অন্যতম কুশীলব। সংগঠনটির দীর্ঘ পরিক্রমায় যারা জড়িত ছিলেন, আছেন অবদান রেখেছেন গভীরভাবে - তাদের জন্য অশেষ শ্রদ্ধা ও আন্তরিক অভিনন্দন। অধুনা থিয়েটার দীর্ঘজীবী হোক।

 (০৩-০১-২০১৯)

Image

গোলাম সারোয়ার

নাট্যকার ও নির্দেশক

অধুনা থিয়েটার ২৯ বছর পূর্ণ করেছে। ত্রিশ বছরে পদার্পন নাট্যাঙ্গনে সুসংবাদ। এই দীর্ঘ সময়ে অধুনা গ্রাম থিয়েটার চর্চা থেকে দেশের তৃণমূল পর্যন্ত নাট্যাঙ্গনের অভিজ্ঞতা সহ গ্রুপ থিয়েটার চর্চায় নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ নাট্যদল। তারা নতুন নাটকের নির্মান, কর্মশালা, সেমিনার, উৎসব সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি সচেতনতায় অগ্রনী ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরও সচেতনতার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। 

অধুনা  উদ্যোগ গ্রহন করেছে দলের জন্য ‘ওয়েব সাইট’ তৈরীর। এই আধুনিকতম উদ্যগটি সারাদেশ তথা বিশ্ব নাট্যাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হতে সহায়তা করবে ‘অধুনা থিয়েটারকে’। নাট্য তথ্যের বিনিময়ে সমৃদ্ধ হবে অধুনা, সমৃদ্ধ হবে দেশ এবং আমাদের নাট্যভুবন। জয় হোক নাটকের। 

(২৫-০৬-২০১৯)

Image

অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ

শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ

নাটক জীবনের কথা বলে। নাটক সময়ের কথা বলে। আমাদের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, আবেগ অনুভূতির অনুপম প্রকাশ ঘটে নাটকের মাধ্যমে। শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির পথিকৃৎ জেলা কুমিল্লা। এখানে যাঁরা দীর্ঘদিন নাটকের চর্চা করেন, নাটক দেখেন, তাঁদের কাছে অতি প্রিয় নাম অধুনা থিয়েটার। অধুনা থিয়েটারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমি দীর্ঘদিন তাঁদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে কী দারুণ উন্মাদনায় সমাজ পরিবর্তনের অবিনাশী লক্ষ্যকে সামনে রেখে সৃষ্টিশীল নান্দনিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের জড়িয়ে রেখেছেন অধুনা থিয়েটারের উজ্জ্বল উচ্ছল কর্মীরা। নাটকের প্রতি, মানুষের প্রতি, দেশ ও সমাজের প্রতি তাঁদের সুমহান অঙ্গীকার ও ভালোবাসা ফুটে উঠে তাঁদের প্রতিটি প্রযোজনায়। বিশেষভাবে বা়ংলা নববর্ষ উদযাপন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার নামকরা নাট্য সংগঠনগুলোর অ়ংশগ্রহণে দশ-বারো দিনব্যাপী নাট্য উৎসব আয়োজন, জারি-সারি-কবিগান, পটের গান, পুঁথি পাঠ, লাঠি খেলার মতো লুপ্তপ্রায় বাঙালি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে অধুনা থিয়েটারের অবিরাম প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


কুমিল্লার মানুষ হিসেবে আমি, আমরা গর্বিত। কারণ আমাদের শহরে অধুনা থিয়েটার নামে একটি অসাধারণ সফল নাট্য সংগঠন রয়েছে। অধুনার সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি নিরন্তর শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।

০৩-০৭-২০১৯

Image

পার্থ প্রতিম মজুমদার

কিংবদন্তী মূকাভিনেতা

অধুনা থিয়েটার এর সাথে আমার আত্মীয়তা ২০০৯ সাল থেকে। তখন ঢাকায় গেছি ফরাসি দূতাবাস এবং ফরাসি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র “আলিয়্যাঁস ফ্রুঁসেজ” এর আমন্ত্রণে ওদের একটি নিজস্ব অনুষ্ঠানে। যখনই দেশে যাই তখনই চেষ্টা করি বিভিন্ন জেলার এবং ঢাকায় মাইমের কর্মশালা করাতে, যদি কিছুটা হলেও দেশের ছেলে-মেয়েদের মাইমের নতুন টেকনিক সম্পর্কে ধারণা দিতে পারি। ঢাকার কর্মশালায় পরিচয় হল এক টগবগে তরুণের সাথে নাম সঞ্জীব কুমার তলাপাত্র। সে জানাল কুমিল্লায় বিখ্যাত নাটকের দল “অধুনা থিয়েটার” এর সাথে জড়িত। যে থিয়েটার এর জন্ম ২৭ জানুয়ারী ১৯৯১ সালে এবং প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল হক স্বপন। “গ্রামই আমাদের গর্বিত ঐতিয্য” এই স্লোগানকে সামনে রেখেই অগ্রজাত্রা এই সনামধন্য থিয়েটার দলের। 

চলমান কর্মশালার ক’দিন পরেই সঞ্জীব আমাকে বলল “অধুনা থিয়েটার” এর আয়োজনে কুমিল্লার সকল থিয়েটার ও নাচের দল আমাকে কিছুদিনের জন্য তাদের শহরে চায়। ঠিক হল ১৯-২১ ডিসেম্বর ২০০৯ সাল কুমিল্লার শিল্পকলা একাডেমিতে আমার পরিচালনায় সকল দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি মূকাভিনয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। খুবই প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আর অতি সল্প সময়ে সংগঠনের সদস্যদের দেখানো মাইমের কৌশল রপ্ত করা আমাকে অভিভূত করেছে। অত্যন্ত আনন্দিত আর ভাল লাগার জায়গা এই যে, সদস্যরা পরিকল্পনা মত এই কর্মশালা সফল ভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। শেষের দিনে কুমিল্লার তৎকালীন ডিসি মো: আব্দুল মালেক উক্ত কর্মশালায় আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন এবং গড়ে উঠেছিল হৃদ্ধতা।

আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল শিল্পকলা একাডেমি মুখোমুখি কুমিল্লা সার্কিট হউসে। “অধুনা থিয়েটার” এর পরম আতেথিয়তা আর কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের ফুলেল শুভেচ্ছা আর ভালবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে যা আমি আমৃত্যু মনে রাখব।

(০৩-০৭-২০১৯)